‘ মা " তারপর " কি হলো ? "তারপর" তুমি ঘুমিয়ে পড়।'
ঐখানেই আমার সঙ্গে শিশুর দূরত্ব
তৈরী করে দেওয়া হলো কি ?
না আমি তার মধ্যে একটা মৌলিক অবস্থান পেলাম । সম্পূর্ণরূপে তার নিজের তার বাল্যে , কৈশোরে ,যৌবনে ,বার্ধক্যে , প্রৌড়ত্বে আর জরায়।
তারপর মৃত্যুর বাধা অতিক্রম করালে আমাকে সকলেই স্মরণ করে। প্রত্যেকেই আমাকে
তার নিজের মত করে লালন করে চলেছে। যার মনযোগ যত নিরবচ্ছিন্ন সে তত বেশি আমাকে উপলব্ধিতে এনে আমার রূপে , রসে , গন্ধে ,শব্দে ও স্পর্শে লোক সমাজে
সমৃদ্ধ হচ্ছে। আমিই
মানুষের CLASS নির্ধারণ করি , ব্যক্তিত্ব
প্রদান করি।
যে যত বেশিক্ষণ আমাকে ধারণ করতে পারবে
আমি তাকে সেরকম ধারা প্রদান করব।
বুঝলেনা তো ?
এই ধর তুমি একটা
পাত্রে মধু , গ্লিসারিন , সরিষার তেল , সূর্য মুখি
তেল,
অলিভ তেল , ডাবের জল , কিংবা পিপাসার পানি
ঢালছ
; সব তরল ঢালার
ক্ষেত্রে
ধারা
নিশ্চয় একরকম হবে না।
কেউ নিরবচ্ছিন্ন, কেউ বা মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন, কেউ বা সবসময় বিচ্ছিন্ন। যার ধারা যত নিরবচ্ছিন্ন, সে ততই আমার আপন। তাকে আমি বেশি স্নেহ করি।
আমার স্নেহ লালন -সহচর্যে তার ধার তত তীক্ষ্ণ হয়। আমার ব্যাপারে প্রত্যেকেই উদাসীন। শিশুর প্রথম যখন আমার সঙ্গে সখ্যতা হয়
তখন আমার সঙ্গে তার সংযোগ ছিন্ন করে জাগতিক করার জন্য তাকে বলা হয়-"ঘুমিয়ে পড় "
আবার বড়াই করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গান বাধে-
‘তার আর পর নাই
নাই কোনো ঠিকানা ’
সত্যই কি তাই ? আমার কোনো ঠিকানা নাই।
(সংক্ষেপিত)
No comments:
Post a Comment